নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় চক্র নিউজ পোর্টাল | নারায়ণগঞ্জ ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ: দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সিংহাসন পুনরুদ্ধার করলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠে তার জনপ্রিয়তা এখনও অমলিন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম পেয়েছেন ১,১৪,৭৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এ বি এম সিরাজুল মামুন পেয়েছেন ১,০১,১৯৬ ভোট। অর্থাৎ ১৩,৬০৩ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন কালাম।
অ্যাডভোকেট আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে কেবল একটি নাম নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠান। তার রাজনৈতিক জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক:
তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সাংসদ মরহুম জালাল উদ্দিনের সুযোগ্য সন্তান। বাবার হাত ধরেই তার রাজনীতির হাতেখড়ি।
এর আগে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) এবং ২০০১ সালে এই একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৬ সালের এই জয় তাকে চতুর্থবারের মতো সংসদে পাঠাচ্ছে।
পেশায় আইনজীবী আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার ‘ক্লিন ইমেজ’ বা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে এই কঠিন লড়াইয়ে জয়ী হতে সাহায্য করেছে।
২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। ৫৬.৫১% ভোটার উপস্থিতির এই নির্বাচনে আবুল কালামকে লড়তে হয়েছে স্থানীয় শক্তিশালী জোটের বিরুদ্ধে। ভোটের পর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল মামুন ভোট পুনর্গণনার দাবি তুললেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কালামের জয় নিয়ে ব্যাপক উল্লাস দেখা গেছে।
বিজয়ের পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, “এই জয় আমার নয়, এই জয় নারায়ণগঞ্জবাসীর ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জয়। আমি সদর-বন্দর এলাকার উন্নয়নের যে ধারা ২০০১ সালে রেখে গিয়েছিলাম, আবারও সেখান থেকেই কাজ শুরু করতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওসমানের পরিবারের দীর্ঘ প্রভাবের পর এই আসনে বিএনপির বড় ব্যবধানে জয়লাভ একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবুল কালামের এই জয় আগামী দিনে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।








