সময় চক্র অনলাইন ডেস্ক, বন্দর (নারায়ণগঞ্জ):
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের সাতেঙ্গা মৌজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারী খাল দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, গরুর খামারের বর্জ্য এবং বিশেষ করে কিছু কোম্পানীর ভরাটকৃত রাস্তার কারণে তার স্বাভাবিক গতিপথ ও জল নিষ্কাশন ক্ষমতা হারিয়েছে। পানিবন্দী হওয়ার এই স্থায়ী সমস্যার সমাধানে সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে শুরু হয়েছে খালের সীমানা নির্ধারণ ও পরিমাপের কাজ।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহিমা আক্তার ইতি-এর নির্দেশে ০৩/১১/২০২৫ খ্রি. তারিখে খালটির পরিমাপের কাজ শুরু হয়।
এই পরিমাপ কার্যক্রমের বন্দর উপজেলা ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কানুনগো মোঃ মিরাজ হোসেন। পরিমাপের মাধ্যমে খালের প্রকৃত সীমানা এবং অবৈধভাবে দখলকৃত অংশের তথ্য উঠে এসেছে।
পরিমাপে দেখা যায়, খালটির কিছু অংশ শুধু ব্যক্তিবিশেষ নয়, বরং কিছু কোম্পানী তাদের নিজস্ব রাস্তা তৈরির জন্য ভরাট করে ফেলেছে, যা খালের প্রবাহকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সমস্যাটি হলো— এই শাখা খালের পানি যে মূল খালে গিয়ে মিশবে, সেই সংযোগস্থলে পানি যাওয়ার কোনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভরাট বা দখলের কারণে সেই পথ বন্ধ। অবিলম্বে যদি এই অংশে খাল খনন করা বা পর্যাপ্ত সংখ্যক কালভার্ট/পাইপ বসানোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে সীমানা নির্ধারণ হলেও বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে না। ফলে পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন এই খাল পরিমাপের সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন। মুছাপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান: জনাব মোঃ মঞ্জুর আলম,বন্দর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ও ভারপ্রাপ্ত চেরয়ারম্যান: ডিপতি, যুবদল নেতা: শাহ নেওয়াজ ও রুবেল,কদমতলি পঞ্চায়েত কমিটি সভাপতি: ওসমান গনি, এছাড়াও, মুছাপুর ১ নং ওয়ার্ড এবং বন্দর ৯ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসী ইউএনও মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং এসিল্যান্ড রহিমা আক্তার ইতি-এর দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে তারা আশা করছেন, শুধুমাত্র সীমানা নির্ধারণ নয়, বরং চিহ্নিত অবৈধ দখল দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে এবং মূল খালে পানি যাওয়ার জন্য অবিলম্বে কালভার্ট বা পাইপলাইনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে জল নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান করা হবে।








