নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়চক্র:
বিবাহের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন ও প্রতারণা রোধে কাবিননামায় (বিবাহ নিবন্ধনে) বর ও কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান, চলমান ভরণপোষণ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সরকারি ডকুমেন্টের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।
আদালত তার রুলে, তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে নিকাহনামা বা কাবিননামার ফরম হালনাগাদ ও সংশোধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং নাগরিকদের পারিবারিক জীবন ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়েছেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে (আইজিআর) এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে এ সংক্রান্ত রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী শেখ ওমর ও তানজিলা রহমান জুঁই।
রিট আবেদনের প্রেক্ষাপট ও যুক্তিসমূহ:
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে প্রচলিত বিবাহ নিবন্ধন ফরমে (ফরম ১৬০১) কিছু সীমাবদ্ধতা থাকার সুযোগে বর কিংবা কনে তাঁদের আগের বিয়ে, তালাক বা পূর্ববর্তী সংসারের সন্তানদের তথ্য গোপন রেখে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এর ফলে পরবর্তীতে পারিবারিক অশান্তি, মামলা-মোকদ্দমা এবং জটিল আইনি অনিয়মের সৃষ্টি হয়।
রিটে যুক্তি দেখানো হয়, বৈবাহিক তথ্যের অসচ্ছতার কারণে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সম্পর্কের সন্তান ও সঙ্গীদের আইনগত অধিকার, অভিভাবকত্ব এবং সঠিক ভরণপোষণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
কাবিননামায় যেসব পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে:
১. বর ও কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান বিয়ের স্পষ্ট বিবরণ।
২. পূর্ববর্তী বিয়ের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তানদের তথ্য ও তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব সংক্রান্ত উল্লেখ।
৩. জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন সনদ কিংবা পাসপোর্ট নম্বরের মতো সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাইযোগ্য করা।
আদালতের এই রুলের ফলে দেশের বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়ন এবং নারী-পুরুষ উভয়ের পারিবারিক ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সূচিত হলো বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।









