ঢাকা,১৬.১০.২০২৫ খ্রি.
সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বছর পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম হওয়ায় শিক্ষার মান, পরীক্ষা পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাসের হার কমার পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো:
সংক্ষিপ্ত সিলেবাস থেকে পূর্ণ সিলেবাসে প্রত্যাবর্তন: কোভিড-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অভ্যস্ত ছিল। এবার সম্পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর প্রস্তুতিতে ঘাটতি দেখা গেছে।
পরীক্ষা পদ্ধতির কঠোরতা: শিক্ষার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষত সৃজনশীল অংশে মানসম্মত উত্তর না আসায় অনেক পরীক্ষার্থীকে কাঙ্ক্ষিত নম্বর দেওয়া হয়নি।
পরীক্ষা বারবার পেছানো বা সময়ের অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, শুধুমাত্র পাসের হার বৃদ্ধি নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। অনেক শিক্ষক মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে, এখনও দুর্বল। দুর্বল অবকাঠামো, মানসম্মত শিক্ষকের অভাব এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সহায়তার ঘাটতিও ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে।
শিক্ষাবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, এই ফলাফলকে একটি ‘সতর্ক সংকেত’ হিসেবে নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। এর জন্য পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষা পদ্ধতিতে আরও যৌক্তিকতা আনা দরকার। শুধু পাসের হার বাড়ানো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন এবং বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়াতে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। নীতিনির্ধারকদের উচিত দ্রুত এই সমস্যাগুলোর মূলে গিয়ে টেকসই সমাধান বের করা।










