ঢাকা 8:18 pm, Saturday, 18 April 2026
শিরোনাম :
বটতলা মাষ্টার বাড়ীর গোষ্ঠী সম্প্রদায়কে মজবুত করতে একাত্মতা ঘোষণা। জাপান প্রবাসী ইমরুল কায়েস ইমনের ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে বন্দর উপজেলার বিএনপির শতাধিক নেতৃবৃন্দের আগমন। লাঙ্গলবন্দে মহাষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসব শুরু: উৎসবমুখর পরিবেশে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল ২৫ মার্চ ২০২৬ পঞ্চবটি বধ্যভূমিতে বীর শহীদদের স্মরণে উপজেলা প্রশাসনের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি তিন শাসনামলের বাংলাদেশ: অর্থনৈতিক উত্থান-পতন ও সংস্কার বাংলাদেশের অভ্যুদয়: একটি জাতিরাষ্ট্রের মহাকাব্য ও ইতিহাসের কালরেখা চেনা দুর্গে চেনা সেনাপতি: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আবুল কালামের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন নতুন যুগে বাংলাদেশ: জনরায়ে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, নেতৃত্বে তারেক রহমান মুছাপুরে ধানের শীষের গণসংযোগে ২নং ওয়ার্ডের জনগণ মুছাপুর ২নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্ভোদন
বিজ্ঞাপন :
Welcome To Our Website 📰 সময় চক্র | 🌐 www.somoychokra.com প্রিয় পাঠক ও বিজ্ঞাপনদাতা, সাম্প্রতিক সময়ে সময় চক্র-এর নামে কিছু ভুয়া খবর, ফেক পেজ ও প্রতারণামূলক লেনদেনের প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। 🔹 সময় চক্রের সকল সংবাদ ও কার্যক্রম পরিচালিত হয় শুধুমাত্র আমাদের অফিসিয়াল মাধ্যমগুলো থেকে — 🌐 ওয়েবসাইট: www.somoychokra.com 📘 ফেসবুক পেজ: সময় চক্র (Somoy Chokra) ▶️ ইউটিউব চ্যানেল: Somoy Chokra 📧 ইমেইল: somoychokra@gmail.com 🔸 টাকা বা বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত কোনো লেনদেন কেবল সময় চক্র-এর অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে এবং অফিসিয়াল যোগাযোগের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। অন্য কোনো ব্যক্তি বা পেজের মাধ্যমে করা লেনদেনের দায়ভার সময় চক্র নেবে না। ⚠️ ভুয়া খবর প্রচার ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যাচাই করুন, তারপর বিশ্বাস করুন। — ✍️ সময় চক্র টিম “সত্য সংবাদে অটল, সময়ের সাথে সময় চক্র।”

নারায়ণগঞ্জ-৫: ক্ষমতার পট পরিবর্তন, স্বতন্ত্র ‘বিদ্রোহী’ মাকসুদ হোসেন কি অপ্রতিরোধ্য?

সময় চক্র ডেস্ক :-
দীর্ঘদিন ধরে এক বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ে থাকা নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনটি এখন এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে। সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের (জাতীয় পার্টি) বর্তমান অনুপস্থিতি এবং গত ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে।
দলীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং কোন্দলের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, স্থানীয় রাজনীতিতে পরীক্ষিত, জনপ্রিয় ও জননেতা হিসেবে পরিচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী, সাবেক মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাকসুদ হোসেন, বর্তমানে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। এই আসনে এখন প্রধান দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, বরং জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ঐতিহ্যবাহী বিরোধী দল বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

আলহাজ্ব মাকসুদ হোসেনের অবস্থান এবং জনসমর্থন বর্তমানে এই আসনে সবচেয়ে সুদৃঢ়। তার জয়ের সম্ভাবনাকে নিম্নলিখিত যুক্তি ও প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা যায়:
মাকসুদ হোসেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তার রাজনৈতিক দৃঢ়তা। অতীতে তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের প্রবল বাধা উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। এই জয় স্থানীয় ভোটারের কাছে তাকে সাহস, দৃঢ়তা এবং জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। মানুষ এখন এমন একজন নেতাকে চায়, যিনি কোনো একক বা প্রভাবশালী শক্তির তোয়াক্কা না করে জনগণের জন্য কাজ করতে পারেন।
তিনি টানা তিনবারের মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সফল উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় সরকারে কাজ করেছেন। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে জনগণের কাছে একজন ‘কাজের মানুষ’ হিসেবে পরিচিত করেছে, যিনি রাস্তাঘাট, ব্রিজ এবং অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তার এই ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ভোটারদের আস্থা অর্জনে সহায়ক।
সাবেক এমপির অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা আসনটিতে একটি বিশাল নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি করেছে। মাকসুদ হোসেন তার শক্তিশালী ব্যক্তিগত জনভিত্তি নিয়ে সেই শূন্যতা পূরণের জন্য প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
মূল রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, মাকসুদ হোসেনের রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে তৈরি একটি নিজস্ব, স্থির ও অ-দলীয় ভোটব্যাংক, যা যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তাকে এগিয়ে রাখবে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন বিএনপি’র জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, একাধিক নেতার তৎপরতা জয়ের পথে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এই আসন পুনরুদ্ধারে যারা চেষ্টা চালাচ্ছেন:
• অ্যাডভোকেট আবুল কালাম (সাবেক এমপি): তিনি একজন প্রবীণ নেতা এবং এই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অতীত জনসেবার রেকর্ড তার মূল শক্তি। তিনি দলের হাইকমান্ড এবং কর্মীদের একটি অংশের কাছে আস্থাভাজন। তবে, নতুন ভোটারদের কাছে তার আবেদন এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে এককভাবে দাঁড়ানো তার জন্য মূল চ্যালেঞ্জ।
• আবু জাফর বাবুল: বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দলের তরুণ ও মধ্যম সারির নেতাকর্মীদের মাঝে সক্রিয়। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
• মাসুদুজ্জামান: তিনি আরেকজন সক্রিয় মনোনয়ন প্রত্যাশী যিনি স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য নিরলস চেষ্টা করছেন। তিনি মূলত তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কাজ করছেন।
বিএনপি’র জয়ের মূল চাবিকাঠি হলো ঐক্যবদ্ধতা। যদি এই প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত একজনকে একক প্রার্থী হিসেবে মেনে নিয়ে তার পক্ষে কাজ না করেন, তবে তাদের ভোট বিভক্ত হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে, বিএনপি সমর্থিত ভোট মাকসুদ হোসেনের মতো জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, যারা দীর্ঘকাল ধরে এই আসনটির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তারা দৃশ্যত দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন:
• জাতীয় পার্টি: সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান পলাতক থাকায় তার দল জাতীয় পার্টি এই আসনে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে। তাদের প্রথাগত ভোটব্যাংক এখন বিভক্ত এবং দিকনির্দেশনাহীন।
• আওয়ামী লীগ: কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় কোন্দলের কারণে এই আসনে তাদের কোনো একক শক্তিশালী প্রার্থী দৃশ্যমান নন। ফলস্বরূপ, দলটির ভোটও অন্য শক্তিশালী স্থানীয় প্রার্থীর দিকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সময় চক্রের বিশ্লেষণ: নতুন অধ্যায়ের হাতছানি
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এবার একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, এটি একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
আলহাজ্ব মাকসুদ হোসেনের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, তার অ-দলীয় ইমেজ, এবং প্রধান দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা—এই তিনটি ফ্যাক্টর তাকে বিজয়ের পথে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে। যদি বিএনপি তাদের একাধিক প্রার্থীর ভোটকে বিভক্ত করে দেয় এবং অন্যান্য দল শক্তিশালী প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আলহাজ্ব মাকসুদ হোসেনের মতো একজন স্থানীয় পরীক্ষিত জননেতা সংসদ সদস্য হিসেবে এই আসনে জয়লাভের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে পারেন।
এই নির্বাচন প্রমাণ করবে, কঠিন সময়ে স্থানীয় জনগণের কাছে দলীয় পরিচয়ের চেয়েও একজন নেতার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও সাহস কতটা বেশি মূল্যবান।

[সময় চক্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল] প্রকাশের তারিখ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৫

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বটতলা মাষ্টার বাড়ীর গোষ্ঠী সম্প্রদায়কে মজবুত করতে একাত্মতা ঘোষণা।

নারায়ণগঞ্জ-৫: ক্ষমতার পট পরিবর্তন, স্বতন্ত্র ‘বিদ্রোহী’ মাকসুদ হোসেন কি অপ্রতিরোধ্য?

Update Time : 26 October 2025, 11:54

সময় চক্র ডেস্ক :-
দীর্ঘদিন ধরে এক বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ে থাকা নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনটি এখন এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে। সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের (জাতীয় পার্টি) বর্তমান অনুপস্থিতি এবং গত ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে।
দলীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং কোন্দলের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, স্থানীয় রাজনীতিতে পরীক্ষিত, জনপ্রিয় ও জননেতা হিসেবে পরিচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী, সাবেক মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাকসুদ হোসেন, বর্তমানে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। এই আসনে এখন প্রধান দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, বরং জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ঐতিহ্যবাহী বিরোধী দল বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

আলহাজ্ব মাকসুদ হোসেনের অবস্থান এবং জনসমর্থন বর্তমানে এই আসনে সবচেয়ে সুদৃঢ়। তার জয়ের সম্ভাবনাকে নিম্নলিখিত যুক্তি ও প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা যায়:
মাকসুদ হোসেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তার রাজনৈতিক দৃঢ়তা। অতীতে তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের প্রবল বাধা উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। এই জয় স্থানীয় ভোটারের কাছে তাকে সাহস, দৃঢ়তা এবং জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। মানুষ এখন এমন একজন নেতাকে চায়, যিনি কোনো একক বা প্রভাবশালী শক্তির তোয়াক্কা না করে জনগণের জন্য কাজ করতে পারেন।
তিনি টানা তিনবারের মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সফল উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় সরকারে কাজ করেছেন। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে জনগণের কাছে একজন ‘কাজের মানুষ’ হিসেবে পরিচিত করেছে, যিনি রাস্তাঘাট, ব্রিজ এবং অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তার এই ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ভোটারদের আস্থা অর্জনে সহায়ক।
সাবেক এমপির অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা আসনটিতে একটি বিশাল নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি করেছে। মাকসুদ হোসেন তার শক্তিশালী ব্যক্তিগত জনভিত্তি নিয়ে সেই শূন্যতা পূরণের জন্য প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
মূল রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, মাকসুদ হোসেনের রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে তৈরি একটি নিজস্ব, স্থির ও অ-দলীয় ভোটব্যাংক, যা যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তাকে এগিয়ে রাখবে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন বিএনপি’র জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, একাধিক নেতার তৎপরতা জয়ের পথে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এই আসন পুনরুদ্ধারে যারা চেষ্টা চালাচ্ছেন:
• অ্যাডভোকেট আবুল কালাম (সাবেক এমপি): তিনি একজন প্রবীণ নেতা এবং এই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অতীত জনসেবার রেকর্ড তার মূল শক্তি। তিনি দলের হাইকমান্ড এবং কর্মীদের একটি অংশের কাছে আস্থাভাজন। তবে, নতুন ভোটারদের কাছে তার আবেদন এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে এককভাবে দাঁড়ানো তার জন্য মূল চ্যালেঞ্জ।
• আবু জাফর বাবুল: বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দলের তরুণ ও মধ্যম সারির নেতাকর্মীদের মাঝে সক্রিয়। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
• মাসুদুজ্জামান: তিনি আরেকজন সক্রিয় মনোনয়ন প্রত্যাশী যিনি স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য নিরলস চেষ্টা করছেন। তিনি মূলত তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কাজ করছেন।
বিএনপি’র জয়ের মূল চাবিকাঠি হলো ঐক্যবদ্ধতা। যদি এই প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত একজনকে একক প্রার্থী হিসেবে মেনে নিয়ে তার পক্ষে কাজ না করেন, তবে তাদের ভোট বিভক্ত হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে, বিএনপি সমর্থিত ভোট মাকসুদ হোসেনের মতো জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, যারা দীর্ঘকাল ধরে এই আসনটির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তারা দৃশ্যত দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন:
• জাতীয় পার্টি: সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান পলাতক থাকায় তার দল জাতীয় পার্টি এই আসনে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে। তাদের প্রথাগত ভোটব্যাংক এখন বিভক্ত এবং দিকনির্দেশনাহীন।
• আওয়ামী লীগ: কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় কোন্দলের কারণে এই আসনে তাদের কোনো একক শক্তিশালী প্রার্থী দৃশ্যমান নন। ফলস্বরূপ, দলটির ভোটও অন্য শক্তিশালী স্থানীয় প্রার্থীর দিকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সময় চক্রের বিশ্লেষণ: নতুন অধ্যায়ের হাতছানি
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এবার একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, এটি একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
আলহাজ্ব মাকসুদ হোসেনের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, তার অ-দলীয় ইমেজ, এবং প্রধান দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা—এই তিনটি ফ্যাক্টর তাকে বিজয়ের পথে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে। যদি বিএনপি তাদের একাধিক প্রার্থীর ভোটকে বিভক্ত করে দেয় এবং অন্যান্য দল শক্তিশালী প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আলহাজ্ব মাকসুদ হোসেনের মতো একজন স্থানীয় পরীক্ষিত জননেতা সংসদ সদস্য হিসেবে এই আসনে জয়লাভের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে পারেন।
এই নির্বাচন প্রমাণ করবে, কঠিন সময়ে স্থানীয় জনগণের কাছে দলীয় পরিচয়ের চেয়েও একজন নেতার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও সাহস কতটা বেশি মূল্যবান।

[সময় চক্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল] প্রকাশের তারিখ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৫