ঢাকা 6:57 pm, Saturday, 18 April 2026
শিরোনাম :
বটতলা মাষ্টার বাড়ীর গোষ্ঠী সম্প্রদায়কে মজবুত করতে একাত্মতা ঘোষণা। জাপান প্রবাসী ইমরুল কায়েস ইমনের ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে বন্দর উপজেলার বিএনপির শতাধিক নেতৃবৃন্দের আগমন। লাঙ্গলবন্দে মহাষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসব শুরু: উৎসবমুখর পরিবেশে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল ২৫ মার্চ ২০২৬ পঞ্চবটি বধ্যভূমিতে বীর শহীদদের স্মরণে উপজেলা প্রশাসনের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি তিন শাসনামলের বাংলাদেশ: অর্থনৈতিক উত্থান-পতন ও সংস্কার বাংলাদেশের অভ্যুদয়: একটি জাতিরাষ্ট্রের মহাকাব্য ও ইতিহাসের কালরেখা চেনা দুর্গে চেনা সেনাপতি: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আবুল কালামের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন নতুন যুগে বাংলাদেশ: জনরায়ে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, নেতৃত্বে তারেক রহমান মুছাপুরে ধানের শীষের গণসংযোগে ২নং ওয়ার্ডের জনগণ মুছাপুর ২নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্ভোদন
বিজ্ঞাপন :
Welcome To Our Website 📰 সময় চক্র | 🌐 www.somoychokra.com প্রিয় পাঠক ও বিজ্ঞাপনদাতা, সাম্প্রতিক সময়ে সময় চক্র-এর নামে কিছু ভুয়া খবর, ফেক পেজ ও প্রতারণামূলক লেনদেনের প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। 🔹 সময় চক্রের সকল সংবাদ ও কার্যক্রম পরিচালিত হয় শুধুমাত্র আমাদের অফিসিয়াল মাধ্যমগুলো থেকে — 🌐 ওয়েবসাইট: www.somoychokra.com 📘 ফেসবুক পেজ: সময় চক্র (Somoy Chokra) ▶️ ইউটিউব চ্যানেল: Somoy Chokra 📧 ইমেইল: somoychokra@gmail.com 🔸 টাকা বা বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত কোনো লেনদেন কেবল সময় চক্র-এর অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে এবং অফিসিয়াল যোগাযোগের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। অন্য কোনো ব্যক্তি বা পেজের মাধ্যমে করা লেনদেনের দায়ভার সময় চক্র নেবে না। ⚠️ ভুয়া খবর প্রচার ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যাচাই করুন, তারপর বিশ্বাস করুন। — ✍️ সময় চক্র টিম “সত্য সংবাদে অটল, সময়ের সাথে সময় চক্র।”

তিন শাসনামলের বাংলাদেশ: অর্থনৈতিক উত্থান-পতন ও সংস্কার

তিন শাসনামলের বাংলাদেশ: অর্থনৈতিক উত্থান-পতন ও সংস্কারের এক মহাকাব্য
নিজস্ব প্রতিবেদক | সময় চক্র নিউজ ডেস্ক
ঢাকা | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গত দুই দশক তিনটি ভিন্ন ধারার নেতৃত্ব প্রত্যক্ষ করেছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সংস্কারমূলক অন্তর্বর্তীকালীন সময় এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ। এই তিন সময়ের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেশের বদলে যাওয়া এক চালচিত্র ফুটে ওঠে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলকে বলা হয় ‘অবকাঠামোগত বিপ্লবের’ সময়। তবে এই উন্নয়নের সমান্তরালে তৈরি হয়েছিল গভীর কিছু অর্থনৈতিক ক্ষত।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৫% থেকে ৭%-এ উন্নীত করা। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগরায়ণ।
শাসনের শেষ ৫ বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার বড় পতন ঘটে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার মূলত একটি ‘অর্থনৈতিক রেসকিউ মিশনে’ ছিল।
ভেঙে পড়া ব্যাংক খাতকে পুনর্গঠন করতে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বিশেষ প্যাকেজ নিশ্চিত করা হয়, যা রিজার্ভের পতন রুখে দেয়।
দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে কয়েক হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ফেরাতে সরকারি সব দফতরে অটোমেশন শুরু হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে শিল্প উৎপাদন কিছুটা বিঘ্নিত হয়। বাজারে নিত্যপণ্যের সিন্ডিকেট ভাঙা ছিল এই সময়ের সবচেয়ে বড় লড়াই। তবে ডলারের রেট ১২০-১২২ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছিল এই সরকার।

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এখন ‘উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়’ পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা করেছেন, উন্নয়নের নাম করে মেগা লুটের দিন শেষ। তিনি প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নজর দিচ্ছেন।
প্রবাসীদের আস্থায় এনে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ১৮ দিনে দেশে এসেছে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
‘মুক্ত বাজার অর্থনীতি’র নামে সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার নতুন আইন আনছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর কাজ চলছে। ইউরোপ ও আমেরিকার সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে নতুন কূটনৈতিক মিশন কাজ শুরু করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শেখ হাসিনার আমল অবকাঠামোর ভিত্তি দিয়েছিল, ড. ইউনূসের আমল সিস্টেমের ক্ষতগুলো পরিষ্কার করেছে, আর এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
সময় চক্র নিউজ ডেস্ক সব সময় নিরপেক্ষ তথ্য দিয়ে পাঠকদের সচেতন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের এই অর্থনৈতিক বিবর্তন আমাদের শেখায় যে, উন্নয়ন মানে শুধু বড় দালান নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জনগণের স্বস্তিই আসল সফলতা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বটতলা মাষ্টার বাড়ীর গোষ্ঠী সম্প্রদায়কে মজবুত করতে একাত্মতা ঘোষণা।

তিন শাসনামলের বাংলাদেশ: অর্থনৈতিক উত্থান-পতন ও সংস্কার

Update Time : 20 February 2026, 12:33

তিন শাসনামলের বাংলাদেশ: অর্থনৈতিক উত্থান-পতন ও সংস্কারের এক মহাকাব্য
নিজস্ব প্রতিবেদক | সময় চক্র নিউজ ডেস্ক
ঢাকা | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গত দুই দশক তিনটি ভিন্ন ধারার নেতৃত্ব প্রত্যক্ষ করেছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সংস্কারমূলক অন্তর্বর্তীকালীন সময় এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ। এই তিন সময়ের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেশের বদলে যাওয়া এক চালচিত্র ফুটে ওঠে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলকে বলা হয় ‘অবকাঠামোগত বিপ্লবের’ সময়। তবে এই উন্নয়নের সমান্তরালে তৈরি হয়েছিল গভীর কিছু অর্থনৈতিক ক্ষত।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৫% থেকে ৭%-এ উন্নীত করা। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগরায়ণ।
শাসনের শেষ ৫ বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার বড় পতন ঘটে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার মূলত একটি ‘অর্থনৈতিক রেসকিউ মিশনে’ ছিল।
ভেঙে পড়া ব্যাংক খাতকে পুনর্গঠন করতে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বিশেষ প্যাকেজ নিশ্চিত করা হয়, যা রিজার্ভের পতন রুখে দেয়।
দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে কয়েক হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ফেরাতে সরকারি সব দফতরে অটোমেশন শুরু হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে শিল্প উৎপাদন কিছুটা বিঘ্নিত হয়। বাজারে নিত্যপণ্যের সিন্ডিকেট ভাঙা ছিল এই সময়ের সবচেয়ে বড় লড়াই। তবে ডলারের রেট ১২০-১২২ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছিল এই সরকার।

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এখন ‘উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়’ পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা করেছেন, উন্নয়নের নাম করে মেগা লুটের দিন শেষ। তিনি প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নজর দিচ্ছেন।
প্রবাসীদের আস্থায় এনে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ১৮ দিনে দেশে এসেছে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
‘মুক্ত বাজার অর্থনীতি’র নামে সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার নতুন আইন আনছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর কাজ চলছে। ইউরোপ ও আমেরিকার সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে নতুন কূটনৈতিক মিশন কাজ শুরু করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শেখ হাসিনার আমল অবকাঠামোর ভিত্তি দিয়েছিল, ড. ইউনূসের আমল সিস্টেমের ক্ষতগুলো পরিষ্কার করেছে, আর এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
সময় চক্র নিউজ ডেস্ক সব সময় নিরপেক্ষ তথ্য দিয়ে পাঠকদের সচেতন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের এই অর্থনৈতিক বিবর্তন আমাদের শেখায় যে, উন্নয়ন মানে শুধু বড় দালান নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জনগণের স্বস্তিই আসল সফলতা।