সময় চক্র ডেস্ক: ঢাকা
যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশি শিক্ষার্থী (F-1) এবং সাংবাদিকদের (I-Visa) ভিসার মেয়াদ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নতুন নীতি কার্যকর হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও পেশাগত কাজ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ল।
আগে সাধারণত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ থাকত। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পুরো কোর্স শেষ করার সুযোগ পেতেন এবং সাংবাদিকরা একাধিক প্রকল্প বা দীর্ঘমেয়াদি অ্যাসাইনমেন্টে কাজ করতে পারতেন। কিন্তু এখন:
- শিক্ষার্থী ভিসা (F-1): ভিসার মেয়াদ কমে যাওয়ায় এখন শিক্ষার্থীদের প্রায়শই ভিসা নবায়নের (Renewal) জন্য আবেদন করতে হবে। এর ফলে ভিসা প্রক্রিয়া আরও জটিল ও ব্যয়বহুল হবে।
- সাংবাদিক ভিসা (I-Visa): সাংবাদিকদের জন্য ভিসার মেয়াদ কমানো হয়েছে। এর অর্থ হলো, নির্দিষ্ট সময়ের পর তাঁদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে বারবার নতুন করে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তন আনা হয়েছে মূলত জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিসা নীতির অপব্যবহার রোধ করার জন্য। বারবার নবায়নের প্রক্রিয়াটি কঠোর নজরদারির সুযোগ দেবে, যাতে ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে কেউ দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে না পারে।
- শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ: প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তাঁদের আশঙ্কা, বারবার ভিসা নবায়নের ঝামেলার কারণে পড়াশোনা শেষ করতে দেরি হতে পারে বা অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁদের দেশে ফিরে আসতে হতে পারে। ভিসা প্রক্রিয়ার এই জটিলতা আর্থিক চাপও বাড়াবে।
- পেশাদারদের হতাশা: বাংলাদেশি সাংবাদিক এবং শিক্ষাবিদরা এই সিদ্ধান্তকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং জ্ঞানের আদান-প্রদানের পথে বাধা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এটি গবেষণামূলক কাজ ও আন্তর্জাতিক রিপোর্টিংকে সীমিত করবে।
এই নতুন ভিসা নীতি ঘোষণার পর থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা সরকারের কাছে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।








