চাকসু নির্বাচনে ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি ও জিএস সাঈদ বিন হাবিব নির্বাচিত; এজিএস পদে জয়ী ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক; ভোট কারচুপির অভিযোগে উপ-উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে ছাত্রদল।
চট্টগ্রাম, ১৬ অক্টোবর ২০২৫:
দীর্ঘ ৪৪ বছরের প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভিপি (সহ-সভাপতি) ও জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে জয়লাভ করে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। অন্যদিকে, এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পদটি দখলে নিয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাত চারটার দিকে ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলের অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
চাকসু নির্বাচনে ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি ৭ হাজার ২২১টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে একই প্যানেলের সাঈদ বিন হাবিব ৭ হাজার ২৯৫টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া, এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ৬ হাজার ৪৪১টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৪৪ বছর পর ছাত্রশিবির চাকসুতে নেতৃত্ব ফিরে পেল। এর আগে ১৯৮১ সালে সর্বশেষ চাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন।
বুধবার সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৪টায়। চাকসুর ২৬টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৪১৫ জন প্রার্থী, আর হল ও হোস্টেল সংসদের ২৪টি পদের জন্য লড়েছেন ৪৯৩ জন।
সারাদিন ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ফলাফল প্রকাশের আগে ক্যাম্পাস জুড়ে বেশ কিছু জায়গায় উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার রাত একটার পর দুই হলের ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে অধ্যাপক কামাল মুক্ত হন।
এর আগে দিনভর সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হলেও, ফলাফল প্রকাশের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের বাইরে ছাত্রদলের সমর্থনে বিএনপি ও ছাত্রশিবিরের সমর্থনে জামায়াতের নেতাকর্মীরা আশেপাশে অবস্থান নেন। এদিন উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তার পাশে অবস্থান করলেও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতেই ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।













