বিশেষ প্রতিবেদক: ঢাকা
একন টিভিতে (EKHON TV) সম্প্রচারিত এক চাঞ্চল্যকর তথ্যচিত্রে (Documentary) বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলা জোরপূর্বক গুম (Forced Disappearance) এবং গোপন আটক কেন্দ্রের (Secret Detention Centers) ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ‘তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গোপন আটক কেন্দ্র উন্মোচন’ শিরোনামের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিভিন্ন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
তথ্যচিত্রটি দাবি করেছে, গুমের ঘটনাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় সবকটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত। এর মধ্যে বিশেষভাবে নাম এসেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB), বাংলাদেশ পুলিশ (সিটিটিসি সহ), ডিজিএফআই (DGFI) এবং এনএসআই (NSI)-এর।
একাধিক ভুক্তভোগীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আটককৃতদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন করা হতো এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ‘নাটক’ সাজিয়ে অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা দেখানো হতো। এমনকি একজন ভুক্তভোগী জানান, একজন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্যই তার জীবন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গুমের শিকার হয়েছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ— দিনমজুর থেকে অত্যন্ত ধনী ব্যবসায়ী, কলেজ পড়ুয়া ছাত্র, নারী ও ১০ বছরের কম বয়সী শিশুও।
- বন্দিশালার সঠিক অবস্থান কেউ জানতে পারলে দায়ীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে, তাই সারা দেশে এভিডেন্স সরিয়ে ফেলা হয় এবং আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ভবনের কাঠামো পরিবর্তন করে ফেলা হয়।
- ৫ আগস্টের পর সরকার পরিবর্তন হলেও বাহিনীর ভেতরে দোষী ব্যক্তিরা পরিবর্তন হননি এবং তারা জানতেন যে বন্দীদের অবস্থান নিশ্চিত হলে দায়ীদের ধরা সম্ভব হবে।
সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্যটি আসে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারে। তথ্যচিত্রটির চূড়ান্ত অংশে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই ধরনের ঘটনা দিনের পর দিন চলতে থাকার পিছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সামরিক উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকী এবং বাহিনী প্রধানদের সমন্বিত নির্দেশনা ছাড়া সম্ভব ছিল না।
প্রতিবেদনটি উপসংহার টানে যে, তৎকালীন সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের নির্দেশনার বাইরে এত বড় আকারের গুমের ঘটনা ঘটার সুযোগ ছিল না, ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
এই তথ্যচিত্রটি এখন বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এর তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।








