ঢাকা: ৭ অক্টোবর, ২০২৫।
অন্তর্বর্তী সরকার জনবান্ধব পুলিশ তৈরির জন্য যে পুলিশ সংস্কার কমিশন (PRC) গঠন করেছিল, তার সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে এখন ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। জনমুখী পুলিশিং, জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে এই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, বাস্তবায়ন চলছে অনেক ধীরগতিতে।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সংস্কার কাজের অগ্রগতি এবং কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সংস্কার কমিশন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছিল। কিন্তু আইনি জটিলতা ও কাঠামোগত কারণে সেগুলো কার্যকর হতে দেরি হচ্ছে।
- আইন পরিবর্তন হচ্ছে না: ১৮৬১ সালের অনেক পুরনো আইনটি বাতিল করে নতুন আইন তৈরির কথা ছিল। এছাড়া, পুলিশের গ্রেফতার ও রিমান্ডের ক্ষমতা কমানোর জন্য ২২টি আইনের সংশোধনের প্রস্তাব ছিল। এই কাজগুলো এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।
- স্বাধীন তদারকি নেই: পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের সুপারিশ ছিল। কিন্তু সেই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে।
- কাঠামোগত পরিবর্তন: নারী পুলিশের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করার জন্য নতুন পদ তৈরি করতে হবে। কিন্তু এই নতুন পদের জন্য অর্গানোগ্রাম অনুমোদন বা পদায়নের কাজ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
- কর্মপরিবেশ: পুলিশের অতিরিক্ত কাজের চাপ কমাতে তাদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা চালু করার কথা ছিল। মাঠপর্যায়ে এর কোনো কার্যকর পরিবর্তন এখনও দেখা যায়নি।
মুখ্য সচিবের সভায় কর্মকর্তারা এই ধীরগতির জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, কাজ দ্রুত শেষ না হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব।
- প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পেতে বিলম্ব।
- দীর্ঘমেয়াদী আইনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঝুলে থাকা কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, পুলিশের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার সফল করতে শক্তিশালী তদারকি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য।
এই ধীরগতির কারণে জনগণের মধ্যে পুলিশের ওপর আস্থা ফেরানোর কাজটি আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।








